• ঢাকা, বাংলাদেশ

ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ ট্র্যাজেডি: ইতিহাসের এক কালো দিন 

 newsbank 
03rd Jul 2025 7:48 am  |  অনলাইন সংস্করণ

✈️

তারিখ: ৩ জুলাই ১৯৮৮
স্থান: পারস্য উপসাগর, ইরানের আকাশসীমা
নিহত: ২৯০ জন (যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে)
উড়োজাহাজ: ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫
উৎপাদক: Airbus A300B2
বিধ্বস্তের কারণ: মার্কিন নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত
ঘটনাস্থল: পারস্য উপসাগরে, বান্দর আব্বাস থেকে দুবাই যাওয়ার পথে


১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলছিল ইরান-ইরাক যুদ্ধ। এই যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের পুরো অঞ্চল ছিল অস্থিতিশীল। যুক্তরাষ্ট্র এ সময় ‘অপারেশন আর্নেস্ট উইল’ নামে একটি সামরিক মিশন চালাচ্ছিল, যার অধীনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছিল।

এই অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের USS Vincennes নামক একটি ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ ইরানের জলসীমায় ঢুকে পড়ে এবং ৩ জুলাই ১৯৮৮ সকালে একটি ইরান এয়ার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে শত্রু বিমান মনে করে ভূপাতিত করে।


  • ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ সকাল ১০:১৭টায় ইরানের বান্দর আব্বাস বিমানবন্দর থেকে দুবাইর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

  • এটি একটি নির্ধারিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট ছিল, তাতে ছিল শিশু, নারীসহ ২৯০ জন আরোহী।

  • কিছুক্ষণের মধ্যেই USS Vincennes থেকে দুটি SM-2MR ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যা সরাসরি আঘাত করে প্লেনটিকে মাঝ আকাশে ভেঙে ফেলে।

  • উড়োজাহাজটি মুহূর্তেই বিধ্বস্ত হয় এবং সমুদ্রে পড়ে যায়।

  • কেউই বাঁচেননি।


যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা মনে করেছিল এটি একটি F-14 Tomcat যুদ্ধবিমান, যা আক্রমণের উদ্দেশ্যে আসছিল।
তবে, সত্য হলো:

  • ফ্লাইটটি নির্ধারিত বাণিজ্যিক পথেই চলছিল।

  • এটি ট্রান্সপন্ডার চালু রেখেছিল (যেটি যাত্রীবাহী প্লেন হিসেবে শনাক্ত করে)।

  • দ্রুতগতির বা নিচু উচ্চতায়ও ছিল না, যেমন যুদ্ধবিমান হয়ে থাকে।

তবে মার্কিন পক্ষ এই ভুলটিকে “দুঃখজনক দুর্ঘটনা” বলে অভিহিত করে এবং ক্ষমা চাইলেও সরকারিভাবে দায় স্বীকার করেনি।


  • বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা হয়।

  • ইরান একে “যুদ্ধাপরাধ” এবং “মানবতা-বিরোধী” কাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে।

  • জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন তদন্ত দাবি করে।

  • ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আদালতে একটি চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে ১৩১.৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়, যার মধ্যে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে $৬১,০০০ দেওয়া হয়।

তবে কোনো সেনা বা কর্মকর্তা শাস্তি পাননি।


এই ঘটনাটি বিমান চলাচল ও যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি বড় শিক্ষা ও সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এটি দেখিয়েছে, যুদ্ধের সময়ে ভুল তথ্য ও আত্মরক্ষার নামে নিরীহ নাগরিকদের জীবন কিভাবে ঝুঁকিতে পড়ে, এবং সেই দায় কীভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়।


৩ জুলাই দিনটি ইরানে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়। পারস্য উপসাগরের ওপর একটি স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মরণ সংগীতও নির্মাণ করা হয়েছে।
২৯০ জনের মৃত্যুর স্মৃতি আজও বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়।

We use all content from others website just for demo purpose. We suggest to remove all content after building your demo website. And Dont copy our content without our permission.
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
এই বিভাগের আরও খবর
 
Jugantor Logo
ফজর ৫:০৫
জোহর ১১:৪৬
আসর ৪:০৮
মাগরিব ৫:১১
ইশা ৬:২৬
সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

আর্কাইভ

July 2025
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031