✈️ 
তারিখ: ৩ জুলাই ১৯৮৮
স্থান: পারস্য উপসাগর, ইরানের আকাশসীমা
নিহত: ২৯০ জন (যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে)
উড়োজাহাজ: ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫
উৎপাদক: Airbus A300B2
বিধ্বস্তের কারণ: মার্কিন নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত
ঘটনাস্থল: পারস্য উপসাগরে, বান্দর আব্বাস থেকে দুবাই যাওয়ার পথে
১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলছিল ইরান-ইরাক যুদ্ধ। এই যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের পুরো অঞ্চল ছিল অস্থিতিশীল। যুক্তরাষ্ট্র এ সময় ‘অপারেশন আর্নেস্ট উইল’ নামে একটি সামরিক মিশন চালাচ্ছিল, যার অধীনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছিল।
এই অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের USS Vincennes নামক একটি ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ ইরানের জলসীমায় ঢুকে পড়ে এবং ৩ জুলাই ১৯৮৮ সকালে একটি ইরান এয়ার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে শত্রু বিমান মনে করে ভূপাতিত করে।
-
ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ সকাল ১০:১৭টায় ইরানের বান্দর আব্বাস বিমানবন্দর থেকে দুবাইর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
-
এটি একটি নির্ধারিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট ছিল, তাতে ছিল শিশু, নারীসহ ২৯০ জন আরোহী।
-
কিছুক্ষণের মধ্যেই USS Vincennes থেকে দুটি SM-2MR ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যা সরাসরি আঘাত করে প্লেনটিকে মাঝ আকাশে ভেঙে ফেলে।
-
উড়োজাহাজটি মুহূর্তেই বিধ্বস্ত হয় এবং সমুদ্রে পড়ে যায়।
-
কেউই বাঁচেননি।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা মনে করেছিল এটি একটি F-14 Tomcat যুদ্ধবিমান, যা আক্রমণের উদ্দেশ্যে আসছিল।
তবে, সত্য হলো:
-
ফ্লাইটটি নির্ধারিত বাণিজ্যিক পথেই চলছিল।
-
এটি ট্রান্সপন্ডার চালু রেখেছিল (যেটি যাত্রীবাহী প্লেন হিসেবে শনাক্ত করে)।
-
দ্রুতগতির বা নিচু উচ্চতায়ও ছিল না, যেমন যুদ্ধবিমান হয়ে থাকে।
তবে মার্কিন পক্ষ এই ভুলটিকে “দুঃখজনক দুর্ঘটনা” বলে অভিহিত করে এবং ক্ষমা চাইলেও সরকারিভাবে দায় স্বীকার করেনি।
-
বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা হয়।
-
ইরান একে “যুদ্ধাপরাধ” এবং “মানবতা-বিরোধী” কাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে।
-
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন তদন্ত দাবি করে।
-
১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আদালতে একটি চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে ১৩১.৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়, যার মধ্যে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে $৬১,০০০ দেওয়া হয়।
তবে কোনো সেনা বা কর্মকর্তা শাস্তি পাননি।
এই ঘটনাটি বিমান চলাচল ও যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি বড় শিক্ষা ও সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এটি দেখিয়েছে, যুদ্ধের সময়ে ভুল তথ্য ও আত্মরক্ষার নামে নিরীহ নাগরিকদের জীবন কিভাবে ঝুঁকিতে পড়ে, এবং সেই দায় কীভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
৩ জুলাই দিনটি ইরানে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়। পারস্য উপসাগরের ওপর একটি স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মরণ সংগীতও নির্মাণ করা হয়েছে।
২৯০ জনের মৃত্যুর স্মৃতি আজও বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়।

